1. dailyamarkothabd@gmail.com : admin :
  2. hmhabibullah2000@gmail.com : Habib :
  3. sabbirmamun402@gmail.com : Sabbir :
দোয়া কবুলের ১৫ আদব ও নিয়ম - দৈনিক আমার কথা
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

দোয়া কবুলের ১৫ আদব ও নিয়ম

Amar Kotha Desk
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়াও একটি ইবাদত। তিনি চান তার বান্দা তার কাছে দোয়া করুক। মনের ইচ্ছা ব্যক্ত করুক। তবে যেনতেনভাবে চাওয়া যায় না। দুনিয়ায় মানুষের কাছে চাইতে গিয়ে কত কিছু মানি। আমাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করারও বিশেষ কিছু নিয়ম ও আদব আছে। যা ‍কোরআন ও হাদিস দ্বারা জানা যায়।

সাধারণভাবে দোয়া করার কয়েকটি আদব ও নিয়ম রয়েছে, যা পালন করা বাঞ্ছনীয়,

একনিষ্ঠভাবে দোয়া করা

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, সুতরাং আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে তাকে ডাক, যদিও অবিশ্বাসীগণ এটা অপছন্দ করে।

দোয়ার শুরুতে মাঝে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা ও দরুদ পড়া

যেমন আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলা। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ দোয়া করবে, তখন তার উচিত আল্লাহর হামদ ও সানা দিয়ে শুরু করা, অতঃপর নবীর ওপর দরুদ পড়া, অতঃপর ইচ্ছামত দোয়া করা।’ (তিরমিজি ৫/৫১৬)

তড়িঘড়ি না করা

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ কোনো গোনাহ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদের দোয়া না করে এবং তড়িঘড়ি না করে, ততক্ষণ তার দোয়া কবুল হতে থাকে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ‘তড়িঘড়ি দোয়া করার অর্থ কী?

তিনি বললেন, এর অর্থ হলো- এরূপ ধারণা করা যে, আমি এত দীর্ঘক্ষণ থেকে দোয়া করছি, অথচ এখন পর্যন্ত কবুল হলো না। এরপর নিরাশ হয়ে দোয়া ত্যাগ করা।’ (মুসলিম, তিরমিজি)

দোয়া কবুলের সময় দোয়া করা

বিজ্ঞাপন

দোয়া কবুলের সময় হলো- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, সেজদায়, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, নামাজের পর, জুমার দিন আসরের পরবর্তী সময়, আরাফাতের দিন এবং ইফতারের সময় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদার ব্যাপারে বলেছেন, ওই সময় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি কাছাকাছি হয়। তাই বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।’ (মুসলিম)

সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দোয়া করা

দোয়াকে অনির্দিষ্ট করা উচিত নয়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা এরূপ বলো না যে, আল্লাহ যদি তুমি চাও; আমাকে মাফ করো। বরং চাওয়াকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।’ (মুসলিম)

কেবলামুখী হয়ে দোয়া করা

কোনো সময় দাঁড়িয়ে সামষ্টিকভাবে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করার কথাও বর্ণিত আছে। বিশেষ করে জুমার দিন আজানের সময় বা আজান পরবর্তী সময়ে নামাজের আগে দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করার ব্যাপারে তাগিদ রয়েছে।

দোয়া কবুলের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা

অজুর সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সেই দোয়া কবুল করেন।

দোয়ার মধ্যে ইসমে আজম পড়া

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন একজন লোক নামাজ পড়ছিল। সে বললো-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِاَنَّ لَكَ الْحَمْدُ لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيْعُ السَّمَوَاتِ وَ الْاَرْضِ يَاذَا الْجَلَالِ وَ الْاِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّوْمُ اَسْأَلُكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু লা ইলাহা ইল্লা আংতাল হান্নানুল মান্নানু বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ইয়াজাল ঝালালি ওয়াল ইকরামি ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু আসআলুকা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। সব প্রশংসা তোমার জন্য। তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি স্নেহ ও দয়া দানকারী। আসমান ও জমিনের স্রষ্ঠা তুমি। হে সম্মান ও শ্রদ্ধার মালিক! হে চিরঞ্জীব ও চির অবস্থানকারী তোমার কাছে আশ্রয় চাই।’

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সে ইসমে আজম পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছে। ইসমে আজমের সঙ্গে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন।’ (তিরমিজি ৩৪৭৫)

আরও পড়ুন: যে দশ আমলে রিজিক বাড়ে

ইসমে আজমের সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সেই দোয়া কবুল করেন মর্মে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে প্রমাণিত।

বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা

দোয়া কবুলের জন্য বিনীতভাবে বারবার আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দোয়ায় বারবার অনুনয়-বিনয়কারীকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন।’

কেননা এর মাধ্যমে বান্দা নিজের অক্ষমতা, অভাব, ভয়-ভীতি ও চাওয়া-পাওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

দোয়ার সময় উভয় হাত উপরে তোলা

দোয়ার করার সময় উভয় হাত উপরে তোলা উত্তম। হাদিসে পাকে এসেছে,

হযরত সাহাল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ আঙুল কাঁধ বরাবর তুলে দোয়া করতেন।’ (বায়হাকি)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়ার সময় উভয় হাত উপরে তুলে তারপর হাত মুখে মুছতেন।’ (বায়হাকি)

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরও খবর