1. dailyamarkothabd@gmail.com : admin :
  2. hmhabibullah2000@gmail.com : Habib :
  3. sabbirmamun402@gmail.com : Sabbir :
জিম্মিদশার দুর্বিসহ দিন থেকে বাড়ি ফিরলেন সাইদুজ্জামান - দৈনিক আমার কথা
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০:০১ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

জিম্মিদশার দুর্বিসহ দিন থেকে বাড়ি ফিরলেন সাইদুজ্জামান

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০২৪

সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী সাইদুজ্জামান বাড়ি ফিরেছেন।

মঙ্গলবার (১৫ মে) বিকেলে নওগাঁ পৌরসভার আরজি-নওগাঁ এলাকার তার বাড়িতে কথা হয় তার সাথে। তার বর্ণনায় উঠে এসছে দুর্বিসহ জিম্মিদশার ৩৩ দিনের কথা।

সাইদুল্লাহ ছিলেন এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী। তিনি জানান, জলদস্যুরা আমাদের জিম্মি করার পর প্রথমে উদ্ধারে এগিয়ে আসে ইটালিয়ান নেভাল ফোর্স। তাদের ড্রোন দিয়ে আমাদের জাহাজটি মনিটরিং করা হয়। একটি ড্রোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে অন্য একটি ড্রোন পাঠিয়ে দেয়া হতো আমাদের নজরদারির জন্য।

একটি হেলিকপ্টারের ওপর থেকে বার বার ঘোষণা দেয় জলদস্যুদের আত্মসমর্পনের জন্য। নয়তো আক্রমন করা হবে। এমনকি তোমাদের অন্য দস্যুদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না। তাদের কথাগুলো কর্ণপাত করতেন না জলদস্যুরা।

দুর্বিসহ জিম্মিদশার দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দস্যুরা প্রতিদিন তাদের অস্ত্র আমাদের দিকে তাক করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতো। ২৩ জন নাবিকের মধ্য একজন করে তাদের অস্ত্রের সামনে নিয়ে গিয়ে কোনো ধরনের অপারেশন করা হলে আমাদের ওপর আক্রমন হবে বলে ভয় দেখানো হতো।

বিজ্ঞাপন

সেসময় দুশ্চিতায় আমরা কেউ ঘুমাতে পারতাম না। পরবর্তিতে জাহাজে ভারী অস্ত্র নিয়ে এসে জমা করা হতো। প্রায় অস্ত্র থেকে ফাঁকা ফায়ার করা হতো। যেহেতু আমরা একটি কেবিনে আটক ছিলাম। সেসময় ছিল রোজার দিন। শুধু পানি খেয়ে ইফতারি ও সেহেরী করতাম।

জলদস্যুরা যেভাবে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের মালিকের সাথে যোগাযোগ করেন এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমডি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এমডি সরাসরি সরকারের সাথে যোগাযোগ করেন। বাংলাদেশ সরকার ইটালিয়ান নেভাল ফোর্সের হেড কোয়াটার ও ইউনাইটেড হেড কোয়াটারে যোগাযোগ করেন।

যোগাযোগের এক ঘন্টার মধ্য ইটালিয়ান নেভাল ফোর্সের হেড কোয়াটার ও ইউনাইটেড নেভাল ফোর্স হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ জাহাজ আমাদের জাহাজ থেকে দেড় থেকে দুই মাইল দূরে অবস্থান করছিল। এতে সোমালিয়া জলদস্যুরা ভয় পেয়ে যায়। পরবর্তিতে সরকার থেকে নির্দেশ আসে, আমাদের রক্ষায় কেউ যেন অপারেশন না চালান। এভাবে প্রতিদিন দূর থেকে নেভাল ফোর্স আমাদের নজরে রাখতেন।

সাইদুজ্জামানের স্ত্রী মানহা তাহরিন শতধা বলেন, স্বামীকে ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এতগুলোদিন আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ সরকার ও মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানায় যে আমার স্বামী পরিবারের কাছে সুস্থ্য ভাবে ফিরে এসেছে।

উল্লেখ্য, মোজাম্বিক থেকে ৫৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ সোমালিয়ার জলদস্যুরা ২৩ বাংলাদেশি নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি জিম্মি করেছিল। গত ১৪ এপ্রিল ভোরে জাহাজটি জলদস্যুমুক্ত হয়। এ সময় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজটি থেকে বোটে নেমে যায়।

এরপর গত ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জাহাজটি দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে ভিড়েছিল। কয়লা খালাস শেষে ২৭ এপ্রিল স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নতুন ট্রিপের পণ্য লোড করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরে যায় জাহাজটি। সেখান থেকে চুনাপাথর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তির ঠিক এক মাস পর বাংলাদেশে পৌঁছায় এস আর শিপিংয়ের মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরও খবর