1. dailyamarkothabd@gmail.com : admin :
  2. hmhabibullah2000@gmail.com : Habib :
  3. sabbirmamun402@gmail.com : Sabbir :
কুমিল্লা জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস - দৈনিক আমার কথা
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লা জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

শিশির রাজন
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

বাংলাদেশর তৃতীয় বৃহত্তর জেলা কুমিল্লা। প্রাচীনকালে কুমিল্লা জেলা বর্তমান ভারতের এিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। বাংলার নবাব সুজাউদ্দিন খান ১৭৩৩ সালে এিপুরা রাজ্য আক্রমণ করে এর সমতল অংশ সুবাহ বাংলার অন্তভূক্ত করেন।

 

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে এিপুরা রাজ্য দখল করে নেয় এবং ১৭৯০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনামলে এিপুরা নামে একটি জেলার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে ১৯৬০ সালে বর্তমান ভারতের এিপুরা রাজ্য থেকে আলাদা করে কুমিল্লাকে একটি জেলা হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়।

 

শুরুর দিকে কুমিল্লা জেলা সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল। পরবর্তীকালে কুমিল্লা জেলা এিপুরা রাজ্যের অংশ হয়েছিল।
বাংলাদেশর রাজধানী ঢাকা শহর থেকে ১০৫ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার দুরত্বে -এর অবস্থান।

কুমিল্লা জেলার পূর্ব দিকে রয়েছে ভারতের এিপুরা রাজ্যে,পশ্চিমে চাঁদপুর ও ৷ মুন্সিগঞ্জ, দক্ষিণে ফেনী ও নোয়াখালী জেলা এবং উত্তরে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা অবস্থিত।
কুমিল্লা জেলার আয়তন ৩০৮৫.১৭বর্গকিলোমিটার। এবং ২০১১ আদমশুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫৩,৮৭,২৮৮ জন।জনসংখ্যা পুরুষ ২৫,৭৫,০১৮ জন এবং নারী ২৮,১২,২৭০ জন।
কুমিল্লা জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব ১৭১২ জন(প্রতি বর্গকিলোমিটার)।
এ জেলার জন্মহার ১.৫৮%।এ জেলায় ৯৪.৬২% মুসলিম ৫.২৬% সনাতনী(হিন্দু) ০.১২% বৌদ্ধ ও অন্যান্য সম্প্রদায় মিলেমিশে বসবাস করে।

 

কুমিল্লা জেলার শিক্ষার হার ৬০.২%।
কুমিল্লা জেলা ২৭টি ওয়ার্ড এবং ১ টি সিটি করপোরেশন, ৮ টি পৌরসভা,১৮ টি থানা,১৭টি উপজেলা, ১৯২ টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৩৬৮৭ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।
কুমিল্লা জেলার অধীনস্থ উপজেলা সমূহ: আদর্শ সদর,কুমিল্লা দক্ষিণ সদর,চোদ্দগ্রাম,লাকসাম,বরুড়া,লাঙ্গলকোট,মনোহরগঞ্জ,তিতাস,হোমনা,মুরাদনগর,চান্দিনা,বুড়িচং,ব্রাহ্মণপাড়া ও লালমাই উপজেলা।
কুমিল্লা জেলার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। এ জেলার অধিকাংশ লোক কৃষি কাজে নিয়োজিত। কুমিল্লা জেলায় প্রচুর পরিমাণে ধান,গম,ভুট্টা,আলু,টমেটো,কুমড়ো,লাউ,বরবটি,ফুলকপি,বাধাকফি,কচু এবং লালশাক,পাটশাক,করল মিশা,পুইশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি উৎপন্ন হয়।

 

এ জেলায় দুটি শিল্প নগরী রয়েছে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কুমিল্লা জেলার রাস্তা-ঘাট খুবই উন্নতমানের।
এ জেলায় মোট সড়কপথের পরিমাণ ১৮০৬ কিলোমিটার,এর মধ্যে পাকাসড়ক ১২১৯ কিলোমিটার ও কাঁচাসড়ক ৫৮৭ কিলোমিটার।
কুমিল্লা জেলার সাথে রেলপথে দেশের যোগাযোগ রয়েছে।বর্তমানে এ জেলার রেলপথের পরিমাণ ১৩৫ কিলোমিটার।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেকোনো শহর থেকে রেলপথে কুমিল্লায় যাতায়াত করা যায়।

 

কুমিল্লা জেলা রসমালাই এবং খাদি ও বাটিক কাপড়ের জন্য জগৎ বিখ্যাত।
এ জেলার তৈরি বাঁশের বাঁশির কদর বিশ্বব্যাপী।
কুমিল্লা জেলার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: শালবন বিহার,ময়নামতি যাদুঘর,ধর্মসাগর পাড় ও পার্ক,কুটিলামুড়া,চারপএমুড়া,ইটখোলামুড়া,রূপবানমুড়া,ওয়ার সিমেট্রি,বার্ড,রাণী কুঠরি,শাহা সুজার মসজিদ,পাঁচ পীরের মাজার,চান্দীমুড়া মন্দির,রাজেশ্বরী কালী মন্দির,বীর চন্দ্র গণপাঠাগার,কবি নজরুল ইনস্টিটিউট,জোড়কানন দীঘি,জগন্নাথ দীঘি,পতুল কৃষ্ণ জমিদার বাড়ি,অর্জুনতলা মসজিদ,আনন্দ বিহার,আবেদা নূর ফাউন্ডেশন,উজিরপুর টিলা,কুমিল্লা চিড়িয়াখানা,চন্ডিমুড়া মন্দিরসহ আরো শতাধিক ঐতিহাসিক দর্শনীয়স্থান রয়েছে কুমিল্লা জেলায়।

 

বিখ্যাত কন্ঠ শিল্পি আসিফ আকবর -এর বাড়ি কুমিল্লা জেলায় এবং ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দও এর বাড়ি এ কুমিল্লা জেলায়।
কুমিল্লা জেলায় একটি স্টেডিয়াম ও একটি বিমান বন্দর রয়েছে।
বর্তমানে বিমান বন্দরটি আর ব্যবহৃত হচ্ছে না।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরও খবর