1. dailyamarkothabd@gmail.com : admin :
  2. hmhabibullah2000@gmail.com : Habib :
  3. sabbirmamun402@gmail.com : Sabbir :
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে পৃথিবীর সেরা হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে - দৈনিক আমার কথা
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় দুই উপজেলা বাবু ও লাল্টু জয়ী নকলা পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে একই পরিবারের ২ জনের মৃ’ত্যু ঘূর্ণিঝড় রিমাল : দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিলো ইউএনও রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে কারিতাসের উদ্যোগে সামাজিক সুরক্ষায় প্রবেশাধিকার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত নড়াইলে সড়কের পাশ থেকে বৃদ্ধার মরাদেহ উদ্ধার। নির্মাণাধীন সীমান্ত সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় আবারো ঝরলো ১টি প্রাণ; আহত ২ নদীতে ভাসছিল নবজাতকের লাশ আমেরিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নিখোঁজ নারীর অর্ধ গলিত লাশ মিলল শোয়ার ঘরে নকলা পৌরসভার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে পৃথিবীর সেরা হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে

মো: সজিব হোসেন ,পাবনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০২৪

দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নিজেদের আখের গোছাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং একাদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি,সংসদীয় কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বেগম নাদিরা ইয়াসমিন ও কেপিআই সার্ভে টিমের সভাপতি নরেশ চাকমার নির্দেশ অমান্য করে পৃথিবীর সেরা দু’টি ব্রীজের অন্যতম পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ধ্বংসের পাঁয়তারা শুরু হয়েছে।

একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয শ্রেণীর কতিপয় নেতাদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন থেকে এসব ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে,রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় অফিস,রেলওয়ে সেতু বিভাগ ও কেপিআই সার্ভে টিমের দায়িত্বশীল সূত্রের দেওয়া অভিযোগে এসব তথ্য জানাগেছে।

সূত্রমতে, নাটবল্টু বিহীন রিবেট দিয়ে তৈরী পৃথিবীর সেরা দু’টি ব্রীজের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের ঈশ^রদীর পাকশী ইউনিয়নের পদ্মানদীর উপর ১৯০৯ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের। সে সময়ে ব্রীজটি নির্মাণ করতে প্রায় সাড়ে তিনকোটি টাকা ব্যয় হয়। নির্মাণের সময় ব্রীজটির রক্ষনাবেক্ষনের জন্য উভয় পাড়ে দীর্ঘ প্রটেকশন বাঁধও নির্মাণ করা হয়। ১৯১৫ সালে ব্রীজ দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হয় ৪ মার্চ ১৯১৫ ইং তারিখে। উদ্বোধন করেন তৎকালিন ভারত বর্ষের ভাইসরয় লড হার্ডিঞ্জ। নির্মাণের পর ব্রীজটিকে বাংলাদেশের ক-শ্রেণীর কেপিআই ভুক্ত স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশের ক-শ্রেণীর কেপিআই ভুক্ত স্থাপনা রক্ষনা বেক্ষনের জন্য কেপিআই সার্ভে টিমের এবং দেশীয় রেলওয়ে সেতু বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সেতু বিশেষজ্ঞদের দিক নির্দেশনায় হার্ডিঞ্জ ব্রীজটি রক্ষনা বেক্ষন হয়ে আসছিল। ব্রীজের বয়স শতবর্ষ অতিক্রম করায় সম্প্রতি পাকশীতে ঢাকা বুয়েটের শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক সেতু বিশেষজ্ঞ জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃতে¦ আন্তর্জাতিক সেতু বিশেষজ্ঞ দল পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা দ্বিতীয় হার্ডিঞ্জব্রীজ নির্মাণের জন্যও সার্ভে করেন। পরিদর্শন শেষে লালনশাহ সেতু টোল প্লাজার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন, নিয়মানুযায়ী সঠিকভাবে পরিচর্জা করা হলে আরও প্রায় পনে একশ বছর ঝুঁকিমুক্ত ভাবে এই ব্রীজ দিয়ে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীও এই মুহুর্তে পাকশীতে দ্বিতীয় হার্ডিঞ্জব্রীজ নির্মান করতে রাজি না। যদি ব্রীজটির নীচ থেকে শুরু করে উভয় পাড়ের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের মধ্য থেকে কোন প্রকার বালু উত্তোলন,পাথর উত্তোলন,প্রটেকশন বাঁধের মাটি না কাটা ও বাঁধের পাথর না সড়ানো হয়। ব্রীজ রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা সকল বিভাগের দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগ্রহণ ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার উপর নির্ভর করবে দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক এবং সরকারকে বিতর্কের উর্দ্ধে রাখার বিষয়টি।

দূর্ভাগ্য হলেও সত্য যে,গত কয়েক বছর থেকে
দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্রীজ এলাকার একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর সুবিধাবাদী কতিপয় নেতাদের ছত্রছায়ায় হার্ডিঞ্জব্রীজের নিকট থেকে পদ্মা নদীর বালু উত্তোলন,বালু বহনের জন্য প্রটেকশকন বাঁধ কেটে বালুবাহী যানবাহন চলাচলের রাস্তা তৈরী করে ব্রীজ এবং গোটা পাকশী শহরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। প্রটেকশন বাঁধের বোল্ডার পাথর অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে। আশংকা করা হচ্ছে পদ্মা নদীতে পানির চাপ বাড়লে বাঁধ ভেঙ্গে হার্ডিঞ্জব্রীজ,লালনশাহ সেতু,পাকশী শহর এমনকি নির্মানাধীন রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও মারাতœক ক্ষতির শিকার হতে পারে। এমন ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় সম্প্রতি রেলওয়ে পাকশী অফিসের পক্ষ থেকে দোকান পাট উচ্ছেদ ও রেল দিয়ে ঘেড়া দেওয়া হয় সামান্য এলাকা। সেটাতেও অনেকেই বিরাগভাজন হলে

জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর গত ২৭.০৭.২০০৩ ইং তারিখে একাদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৮তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় শতবর্ষ হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায়সংসদীয় কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বেগম নাদিরা ইয়াসমিন জলি জানান,সেতুটির এলাইনমেন্টের নিকটবর্তী স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে যা সেতুর জন্য অত্যান্ত ঝুঁকি পূর্ণ। এ প্রসঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জানান,রেলের জায়গা অথবা হার্ডিঞ্জ রেল সেতুর এলাইনমেন্টের নিকটবর্তী স্থান হতে বালু উত্তোলন কোনভাবেই কাম্য নয়। তিনি দ্রæত বালু উত্তোলন বন্ধ করে অত্র কমিটিকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। রেলপথ মন্ত্রী হার্ডিঞ্জ সেতুর এলাইনমেন্টের নিরাপত্তার জন্য সেতুর উভয়দিকের গাইড বাঁধ কেটে বালু পরিবহণের জন্য ট্রাক চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন। এমতাবস্থায় পশ্চিম রেলের জিএমের পক্ষে প্রধান ভ’-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করীম গত ৩১.০৭.২৩ ইং তারিখে হার্ডিঞ্জ সেতুর এলাইনমেন্টের নিরাপত্তার লক্ষ্যে সেতুর এলাইনমেন্টের নিকটবর্তী স্থান থেকে বালু উত্তোলন এবং সেতুর উভয় দিকের গাইড বাঁধ কেটে বালু পরিবহণের জন্য ট্রাক চলাচল বন্ধ করার জন্য সরেজমিন তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক,পাকশী বিভাগীয় ভ’-সম্পত্তি কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় প্রকৌশলী ১ ও ২ রেলওয়ে পাকশীকে নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে রেলপথ মন্ত্রীর দপ্তর,সচীব,ডিজি,প্রধান প্রকৌশলী পশ্চিম ও সেতু প্রকৌশলীসহ সংশ্লীষ্ট সকলকে অনুলিপি প্রদানেরও নির্দেশ দেন।

এরপর গত ২৪.০৮.২০২৩ ইং তারিখে রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৯তম সভা রেলপথ মন্ত্রনালয়ে অনুষ্ঠিত হয় । উক্তসভায় রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৮তম সভার বিষয়ে পুণরায় আলোচনায় স্থান পায়। এসভায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বেগম নাদিরা ইয়াসমিন জলির পরামর্শ ও মাননীয় রেলমন্ত্রীর নিদের্শনার পরিপ্রেক্ষিতে শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ সেতুর এলাইনমেন্টের নিরাপত্তার লক্ষে সেতুরএলাইনমেন্টের নিকটবর্তী স্থান হতে বালু উত্তোলন এবং সেতুর উভয়দিকের গাইড বাঁধ কেটে বালু পরিবহণের জন্য ট্রাক চলাচল বন্ধের বিষয়ে ডিআরএম পাকশীর উপস্থিতিতে একমাসের মধ্যে বালু সরিয়ে নেওয়া হবে মর্মে সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।

গত ২৪.০৮.২০২৩ ইং তারিখে রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৯তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রদেয় এক মাস সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উক্তস্থানে যদি বালু থাকলে সে বালু নিলামে বিক্রি করার নির্দেশ প্রদান করেন প্রধান ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করীম। কিন্তু নিলাম করার নির্দেশ দেওয়ার একমাস পার হলেও সে বালু অদ্যবধি নিলাম করা হয়নি এবং ঊভয় পাড়ের বালু বহনের ট্রাক চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
শুধু তাইনা, এর আগে গত ২২.০২.২০২৩ ইং তারিখে কেপিআই সার্ভে টিম, রাজশাহী রেঞ্জ কর্তৃক রেলওয়ে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের জরিপ করে উভয় পাশের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন,ড্রেজিং,মাছ ধরা,নৌকা ভ্রমন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ করা,দুই কিরোমিটারের মধ্যে কাটা তারের বেড়া দেওয়াসহ সার্বক্ষনিক টহল ব্যবস্থাসহ ছয়টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়। একইভাবে কেপিআই সার্ভে টিমের সভাপতি ও রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নরেশ চাকমা গত ০৭.০৫.২০২৩ ইং তারিখে হার্ডিঞ্জ ব্রীজের জরিপ করে উভয় পাশের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন,ড্রেজিং,মাছ ধরা,নৌকা ভ্রমন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ করা,দুই কিরোমিটারের মধ্যে কাটা তারের বেড়া দেওয়াসহ সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা টহল ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরও খবর