1. dailyamarkothabd@gmail.com : admin :
  2. hmhabibullah2000@gmail.com : Habib :
  3. sabbirmamun402@gmail.com : Sabbir :
অল্প বয়সে বিয়ের উপকারিতা - দৈনিক আমার কথা
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

অল্প বয়সে বিয়ের উপকারিতা

মু. হাবিবুল্লাহ আল হাবিব
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০২৩

Tags: , ,

বিবাহ মহান আল্লাহ্ তালার এক বিশেষ নেয়ামত।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। ঈমান পূর্ণতার সহায়ক।চারিত্রিক আত্মরক্ষার অনুপম হাতিয়ার যুবক- যুবতীর চরিত্র গঠনে অন্যতম উপাদান। আদর্শ পরিবার গঠন, মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ ও মানসিকপ্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ হচ্ছে বিবাহ।

যা মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা।এ চাহিদা পুরণার্থেই ইসলামী শরীয়তে বিয়ের হুকুম আরোপ করেছেন । মানবজাতিকে লিভটুগেদারের মত মহাঅভিশাপের হাত থেকে রক্ষা করতে বৈধ ভাবে যৌন চাহিদা পূরণের জন্যই মহান রব্বুল আলামীন বিবাহের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিয়ের সঠিক বয়স কত? এবং অল্প বয়সে বিয়ে করার উপকারিতা বা কি কি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে তা নিয়ে আমাদের জানার কৌতুহলের শেষ নেই।

বিয়ের সঠিক বয়স বিয়ে করার উপকারিতা, অপকারিতা সম্পর্কে বিজ্ঞান ও ধর্মে কি বলা আছে এবং বাস্তবতা কতটুকু রয়েছে সে সকল বিষয় নিয়েই আজকের আলোচনা সাজানো হয়েছে।

বর্তমানে একটা ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত গতে হলে তার জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় শেষ করে ফেলতে হয়। আর জীবনের অর্ধেকের পর এসে তার বিয়ে করা তেমন কোন আগ্রহ বা প্রয়োজন হতে থাকে না বরং জীবনের যে টুকু সময় সে বিয়ে না করে কাটিয়েছে এর জন্য অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং বৈবাহিক জীবনে আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

বিজ্ঞানও এটি সম্মত করে যে, একজন ছেলে বা মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পর পর বিয়ে করার মাধ্যমে অনেক ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে। সেটি হতে পারে মানসিক ও শারীরিক, এমনকি ইসলাম ধর্মেও এই নির্দেশনা রয়েছে।

অল্প বয়সে বিয়ের করার উপকারিতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ” তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্ম পরায়ন তাদেরও।তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন।আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ”।(সূরা নূরঃ আয়াত- ৩২)

অপর দিকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স) বলেছেন- “হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিবাহ করা কর্তব্য।কেননা, বিবাহ হয় দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা পালন করে।কেননা, রোজা হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম।(বুখারী-৫০৬৫,মুসলিম-১৪০০)

আরো একটি হাদিস শরীফে রাসুল (স) বলেন-
১। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী
২। চুক্তিবদ্ধ গোলাম যে তার মনিবকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পদ আদায় করে মুক্ত হতে চায়।
৩। ওই বিবাহিত ব্যক্তির যে বিবাহ করার মাধ্যমে পবিত্র থাকতে চাই। (তিরমিযি-১৬৫৫, নাসায়ি-৩২১৮)

অল্প বয়সে বিয়ে করলে রোমান্টিকতার বহু সময় পাওয়া যায়। তাহলে কেন বিয়ে করতে দেরি করছেন। আল্লাহ তো অফার দিয়েই রাখছেন।আল্লাহ তোমাকে বড়লোক বানিয়ে দিবেন তার ওয়াদা দিয়েছেন।শুধু খামাখা কেন দেরি করছেন, বিয়ে করুন… যৌবন শুরু হয়েছে, আল্লাহর দেওয়া বিশাল অফারটাকে গ্রহণ করুন।

বিয়ে করলে যে উপকারিতা পাবেন তা হলঃ-
১।লজ্জাস্থানের হেফাজত হয়
২।বিবাহ চক্ষু নিচু হয়
৩। তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যায়
৪। ঈমান পরিপূর্ণ হয়
৫। অসুস্থতা দূর হয়
৬।ইবাদতে মজা পাওয়া যায়
৭।আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়
৮। মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, এমন তৃপ্তি যেটা শুধু নিজের বউয়ের কাছে পাবেন, যেনা করতে গিয়ে পাবেন না।
৯।মেজাজ ঠান্ডা থাকে।
১০।যৌবনের ক্ষুধা নিবারণ হয়।
এ রকম আরও অনেক উপকারিতা আছে।

অল্প বয়সে বিয়ে করেছেন এরকম কিছু সফল ব্যক্তিঃ-
আমরা অনেকেই বিভিন্ন মনীষী, গুণবান ব্যক্তিদেরকে নিজেদের জীবনের আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করি।ইতিহাস অসংখ্য ব্যক্তি রয়েছেন যারা আমাদের নিকট বহুল পরিচিত, তারাও অল্প বয়সে বিয়ে করেছেন ও সফলতা লাভ করেছে।

১।বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা) ৭ বছর বয়সের হযরত আয়েশা (রা)কে বিয়ে করেন এবং৯ বছর বয়সে সংসার শুরু করেন।

২। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিয়ে করেছিল ১৪ বছর বয়সে তখন তার স্ত্রীর বয়স ছিল ৮ বছর।
৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিয়ে করেছিলেন ২২ বছর বয়সে তখন তার স্ত্রী বয়স ছিল ১১ বছর।

৪।দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিয়ে করেছিলেন ১৪ বছর বয়সেতখন তার স্ত্রীর সারদা দেবীর বয়স ছিল ৬ বছর।
৫।সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিয়ে করেছিল ১৭ বছর বয়সে তখন তার স্ত্রীর বয়স ছিল ১১ বছর।

৬।বঙ্কিমচন্দ্র বিয়ে করেছিলেন ১১ বছর বয়সে তখন তার স্ত্রী বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর।

৭।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৩ বছর বয়সে তিন বছর বয়সের রেণুর সাথে বিয়ে হয়, বিয়ের ৯ বছর পর বঙ্গবন্ধু ২২ বছর বয়সে ফুলসজ্জা হয়।

ইতিহাসের পাতায় এরকম অসংখ্য নজির আছে যারা অল্প বয়সে বিয়ে করেছেন।
আমরা অনেকে বর্তমানে নিজেদের মনগড়া কিছু যুক্তি খাটিয়ে অল্প বয়সে বিয়ে করার উপকারিতা কে অস্বীকার করতে চাচ্ছি।

বর্তমানে আইনে জাহিলিয়াতের মতো হয়ে গেছে, একজন যুবক নিজের ঈমানকে সঠিক পথে রাখতে চাইলেও সেটা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।যুবকেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও নানাভাবে জেনার কাজে লিপ্ত হয়। নিজেদেরকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

তাই,যুবকদের প্রতি একটা অনুরোধ থাকবে, অবশ্যই নিজের পরিবারকে রাজি ও সম্মত করেই বিয়ে করবেন।
তাদেরকে বিয়ের উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝানোর চেষ্টা করবেন,
কখনো পরিবারের সম্মতির বাইরে গিয়ে কিংবা পরিবারকে ছেড়ে বিয়ে করা উচিত নয়।
কেননাো, বিয়ে করার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের জীবনকে সুন্দর করার পাশাপাশি পরিবারকে খুশি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এইচ এম হাবিবুল্লাহ আল হাবিব
বাংলা বিভাগ
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরও খবর